ঢাকা বোর্ডের তিন কেন্দ্রে ‘ভুল প্রশ্নে’ এইচএসসি পরীক্ষা

ঢাকা বোর্ডের তিন কেন্দ্রে ‘ভুল প্রশ্নে’ এইচএসসি পরীক্ষা

এইচএসসি ও সমমানের বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্রে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরীক্ষার প্রথম দিনে ঢাকা বোর্ডের আওতাভুক্ত তিনটি কেন্দ্রে ২০১৯ সালের বদলে ২০১৬ সালের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। এ তিন কেন্দ্র সচিবকে শোকজ করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক সোমবার রাতে জাগো নিউজকে বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার তিনটি কেন্দ্রে ২০১৬ সালের প্রশ্ন বিতরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সত্যতা পাওয়া গেলে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর সরকারি কলেজ ও মাদারীপুরের শাজাহানপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ২০১৬ সালের এইচএসসির প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছে। ভুল প্রশ্নে এ তিন কেন্দ্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়টি জানাজানি হলে দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসেন ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব দেন। এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সিঙ্গাইর সরকারি কলেজ ও শাজাহানপুর সরকারি কালেজ কেন্দ্রের সব খাতা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়। এসব কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার্থীদের খাতা বর্তমানে শিক্ষা বোর্ডে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ ১ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বলেন, ‘অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আমরা সব খাতা বোর্ডে সংরক্ষণ করেছি। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী কলেজে ৩৪ শিক্ষার্থীকে ও সিঙ্গাইর সরকারি কলেজে ২০১৯ সালের বদলে ২০১৬ সালের এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী) প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। শাজাহানপুর সরকারি কলেজে ২০১৬ সালের এমসিকিউ ও লিখিত দুটি সেটেই ২০১৬ সালের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।’

চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা তিনজন কেন্দ্র সচিবকে শোকজ করেছি। সোহরাওয়ার্দী কলেজের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি দুই কেন্দ্রের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আগামীকাল মঙ্গলবার স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্ব দেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় আমরা সেই দিকটা লক্ষ্য রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পরীক্ষা সংক্রান্ত ছোট অভিযোগও এড়িয়ে যাওয়া হবে না। অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত স্যাররা আমাদের ২০১৬ সালের প্রশ্ন দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা দেখার পর স্যারদের জানালে কিছু হবে না বলে পরীক্ষা দিতে বলেন। এ কারণে আমরা ভুল প্রশ্নেই পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসি।

তারা বলেন, ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরে অনেক চিন্তার মধ্যে পড়েছি। প্রস্তুতি অনুযায়ী উত্তর দিতে পারিনি। তাই এ পরীক্ষার ফল নিয়ে দুশ্চিন্তার আছি। এখন পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেও মানসিক সমস্যা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে উপজেলা ভিত্তিক

তথ্যমতে, পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী পহেলা এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে লিখিত পরীক্ষা। আর ১২ থেকে ২১ মের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে। এবার দুই হাজার ৫৭৯টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৮১টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণির এ চূড়ান্ত পরীক্ষা দিচ্ছেন। গতবারের চেয়ে এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১১৮টি, কেন্দ্র বেড়েছে ৩৮টি। ঢাকার বাইরে এবার বিদেশের আটটি কেন্দ্রে ২৭৫ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, এর মধ্যে ১২৭ জন ছাত্র, ১৪৮ জন ছাত্রী।

এবার এইচএসসি সমমানের মোট ৫১টি বিষয়ে ১০১টি পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন সিলেবাসে পত্রের সংখ্যা ১৫১টি। সারাদেশে মোট ২ হাজার ৫৮০টি কেন্দ্রের প্রায় ৪০ হাজার কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ১ লাখ শিক্ষক পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। পরীক্ষা নিতে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন ও ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য মোট ৩ হাজার ৯৩২ ধরনের প্রশ্ন ছাপা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বরাদ্দ আছে।

এবারও শুরুতে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশ এবং পরে রচনামূলক অংশের পরীক্ষা হচ্ছে। ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার সময় ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার সময় আড়াই ঘণ্টা। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির মাধ্যমে প্রশ্ন সেট নির্ধারণ করে সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একাধিক প্রশ্নের সেট পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১৩ মে। ১৪ মে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৩ মে শেষ হবে । পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪

SSC Result 2019   HSC Exam Routine 2019   PSC Scholarship Result 2019

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*