নতুন এমপিওভুক্ত (MPO) ২,৭৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ

নতুন এমপিওভুক্ত (MPO) ২,৭৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ
প্রধানমন্ত্রী-শেখ-হাসিনা

নতুন এমপিও ভুক্ত হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ। নতুন এমপিওভুক্ত হওয়া ২ হাজার ৭৩০ টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে দুপুর ১২টায় এই ঘোষণা দেন। গণভবনে এমপিওভুক্ত অনুষ্ঠানে তিনি এই তালিকা ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে ‍আরো ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী।

 

দীর্ঘ ৯ বছর পর mpo ভুক্তির বন্ধ দরজা খুলছে আজ। এবার ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজের সংখ্যা ১ হাজার ৬৫১টি, মাদরাসা ৫৫৭টি এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠান ৫২২টি। নতুন এমপিও ভুক্তির তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে https://moedu.gov.bd/ পাওয়া যাবে।

নতুন এমপিওভুক্তির মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৩৯টি, ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১০৮টি, ৯ম-১০ম শ্রেণির মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮৮৭টি, স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৬৮ টি, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ৯৩টি এবং ডিগ্রি কলেজ ৫৬টি। আর নতুন এমপিওভুক্ত মাদরাসার মধ্যে দাখিল মাদরাসা সংখ্যা ৩৫৮টি, আলিম মাদরাসার সংখ্যা ১২৮টি, ফাযিল মাদরাসা ৪২টি ও কামিল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সব যোগ্য প্রতিষ্ঠান mpo হয়েছে, যাদেরকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে তাদের এই যোগ্যতা ধরে রাখতে হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি নতুন এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাইকে অভিনন্দন জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে mpo তালিকা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া তথ্য ক্রস চেক করা হয়েছে। তালিকাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর পরও কিছু যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আবারও পাঠানো হয়েছে। সব সঠিকতা যাচাই করেই এমপিওভুক্তির ফাইলে প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ইতিমধ্যে এমপিওভুক্ত হওয়াসহ সব প্রতিষ্ঠানকে নীতিমালা অনুযায়ী তাদের মান ধরে রাখতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এতে ব্যর্থ হলে তাদের এমপিও সাময়িক স্থগিত করা হবে। পুনরায় যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে আবারও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। এমপিও পেয়ে গেছে ভেবে হাল ছেড়ে দিলে তারা বিপদে পড়বে।

উল্লেখ্য, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এম.পি.ও ভুক্তির লক্ষ্যে অর্থ বিভাগ হতে ৮৬৫,০০,০০,০০০/-(আটশত পঁয়ষট্টি কোটি টাকা) বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় বাছাইকৃত ১৬৫১টি প্রতিষ্ঠানের
জন্য এমপিও বাবদ বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৪৫০,৮৩,৭৭,৪৪০/-(চারশত পঞ্চাশ কোটি তিরাশি লক্ষ সাতাত্তর হাজার চারশত চল্লিশ) টাকা। উক্ত ব্যয়ের পর সম্ভাব্য ৪১৪,১৬,২২,৫৬০/-(চারশত চৌদ্দ কোটি ষােল লক্ষ বাইশ হাজার পাঁচশত ষাট) টাকা অবশিষ্ট থাকবে। এ অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে চলতি অর্থ বছরের পুনরায় আরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যাচাই বাছাই এম.পি.ও ভুক্ত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ জেএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা

এমপিও হচ্ছে Monthly Pay order । MPO ভুক্ত করনের মাধ্যমে বেসরকারি পর্যায়ের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় বিভিন্ন ধরনের নিয়োগ, পদোন্নতি এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতন কার্যকর করা হয়। মান্থলি পেমেন্ট ওর্ডারে অন্তর্ভূক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বেতন-ভাতাদির সুবিধা পান না।

এমপিও ভুক্ত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা তাঁদের মূল বেতনের পুরোটাই সরকারি কোষাগার থেকে প্রাপ্ত হবেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা অন্যান্য সরকারী কর্মচারীদের মত মহার্ঘ্যভাতা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসবভাতা পাবেন। যে সকল প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত হবে সেসকল প্রতিষ্ঠানের কমকর্তা ও কর্মচারীরা পর্যায়ক্রমিক ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার বেতন কাঠামোর আওতায় আসবে। কেবল মাত্র এমপিও ভুক্ত হবার পরেই চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*